
ঘাসেদের ফাগুন
ঘাসেদের ফাগুন একজন নারীর গল্প। একজন মায়ের গল্প। একটি সামাজিক ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ ও পুরুষশাসিত সমাজের চিত্র। যেখানে ইলোরা রাশেদ একসময় তার স্বপ্ন হারায় ধর্মীয় কুসংস্কার ও সামাজিক কুসংস্কারের বাস্তবতায়! বাবার সামাজিক দায়বদ্ধতার বলি হয়ে অল্প বয়সে স্বামীকে বিশ্বাস ও ভালোবাসায় আঁকড়ে ধরে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু পারিবারিক ও ধর্মীয় আচারের ভুল সিদ্ধান্ত ও ষড়যন্ত্রে পুনরায় তার বিশ্বাস ভঙ্গ হয়। নীরবতার ও নারী জীবনের নিদারুণ বাস্তবতার কাছে আশ্রয় নিয়ে নিজের মনোবলকে সুদৃঢ় করে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা নারী ইলোরা রাশেদের গল্প ঘাসেদের ফাগুন। ইলোরা রাশেদ কি দাম্পত্যের প্রেম ও অপ্রেমের দাবানলে পুড়ে হারিয়ে যায়? নাকি আরও শক্তিশালী হয়ে নিজেকে পরিবার ও সমাজ থেকে রাস্ট্রীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেয় নিজের ধৈর্য, পরিশ্রম, দূরদর্শী ও কর্মের মাধ্যমে? কীভাবে বয়ঃসন্ধির সময়টাতে এলোমেলো মনস্তত্ত্বের জটিলতায় আক্রান্ত সন্তানকে আগলে রেখে সঠিক পথে পরিচালনা করতে হয় তার চমৎকার উদাহরণ ইলোরা রাশেদ । মায়ের করণীয় থেকে শুরু করে একজন নারীর সচেতন জীবন গড়ার ছক আঁকা রয়েছে ঘাসেদের ফাগুন উপন্যাসে। হিল্লা বিয়ে থেকে শুরু করে নারীদের দোযখ নির্ধারণের সামাজিক ও পারিবারিক চাপের বিরুদ্ধে একটি সাহসী প্রতিবাদ ঘাসেদের ফাগুন উপন্যাস। শুধু দাম্পত্য কলহ কিংবা পরকীয়ার গতানুগতিক গল্প নয়। একটি সুগঠিত মানবিক পরিবার ও সমাজ গঠনের নির্দেশনা সমৃদ্ধ উপন্যাস ঘাসেদের ফাগুন। শতবছর পরেও এই উপন্যাসের আবেদন থাকবে সর্বকালের সমসাময়িক সময়ে। লেখকের একটি সমৃদ্ধ সৃষ্টি ঘাসেদের ফাগুন।