
বীরাঙ্গনাকে লেখা চিঠি
বীরাঙ্গনাকে লেখা চিঠি একটি ডকুমেন্টারি বই। এ শুধু বই নয় এ ইতিহাসের রক্তাক্ত ও বীভৎস আমলনামা! উননিশো একাত্তর দীর্ঘ নয়মাসের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার নিরীহ মা-বোনদের উপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি কতৃক বর্বরোচিত যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিদগ্ধ ইতিবৃত্ত! এ শুধু আমার কাছে আামার লেখার উপস্থাপন নয়। এ আমার দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতা বীরাঙ্গনা মা-বোনদের আত্মত্যাগের কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের একজন নাগরিকের জবাবদিহিতা। বীরাঙ্গনা মা বোনদের মহান আত্মত্যাগের ইতিহাস আমাদের সকলের জানা দরকার। আমাদের সকলের দায়িত্ব হলো এই বিদগ্ধ ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা। একটি স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র পাওয়ার জন্য কতগুলো নিরীহ প্রাণ ও নারীদের আবরু ছিনিয়ে নিয়েছিল পাক হানাদার বাহিনি তার তথ্যচিত্র! পাকসৈনিকেরা যুদ্ধের নামে কীভাবে বাংলার মা-বোনদের যৌন নির্যাতন করেছিল! কেমন ছিল সেই দিনগুলো! একাত্তরে কতটা অসহায় ছিল আমাদের মা-বোনেরা! সেই বিদগ্ধ সময়ের ইতিহাসের ইতিবৃত্ত এই ডকুমেন্টারি বইটি। কারা মূলত রাজাকার ছিল! রাজাকাররা কীভাবে পাক হানাদার বাহিনিকে তথ্য ও সহযোগিতা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনা মা-বোনদের জীবন দুর্বিসহ করে তুলেছিল! সেই সকল সময়, জীবন চিত্র এবং নির্যাতনের তথ্যবহুল একটি ডকুমেন্টারি বীরাঙ্গনাকে লেখা চিঠি। যা প্রতিজন মানুষের বিবেককে মানবতার কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। যুদ্ধ মানেই যৌন নির্যাতন নয়! বিশ্ববিবেককে প্রশ্ন রাখা হয়েছে। এই বইয়ের এক একটি শব্দ, কথা বাংলাদেশের মানুষের চৈতন্য জাগরণের জন্য একটি শক্তিশালী স্লোগান।। দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ করার দলিল। বীরাঙ্গনা মা-বোনদের আত্মত্যগের এই দলিল পড়ে দেশের প্রতি দায়িত্ব শীল হবে। মানবতার পক্ষে উজ্জীবিত হতে এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে সাহসী করে তুলবে পাঠককে। যুদ্ধের নামে নারীদেরকে যৌন নির্যাতনের রসদ বানানোর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা হয়েছে এই ডকুমেন্টারিতে। দেশের প্রতি দায়িত্ববান হতে অনুপ্রেরণা দেবে এই বইটি। ইতিহাসের পাতায় সমৃদ্ধ তথ্যচিত্র হয়ে থাকবে বীরাঙ্গনাকে লেখা চিঠি বইটি।